উয়েফা নেশনস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডন 47তম মিনিটে গোল করেন, শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে 2-0 গোলে হারায়। ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার এই তারকা ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভিকে সাক্ষাৎকার দেন।

আজ রাতে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স কেমন দেখলেন?
“আমার মনে হয় ভালোই ছিল, আমরা খুব আধিপত্য নিয়ে খেলেছি। ম্যাচের শেষ দিকে আমাদের আরও বেশি গোল করা উচিত ছিল; সম্ভবত বক্সের আশপাশে এবং শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের মান যথেষ্ট ভালো ছিল না। কিছু বিষয় সত্যিই আছে যেগুলোতে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। মনে হয়েছে, প্রতিপক্ষ দশজনে নেমে যাওয়ার পর আমরা বরং কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলাম, আমাদের পাসিংও খানিকটা ঢিলেঢালা হয়ে গিয়েছিল। এই সপ্তাহের শুরুতে যেমন বলেছিলাম, আমাদের সবসময় উদ্যোগ নিজেদের হাতে রাখতে হবে এবং সত্যিকার অর্থে ম্যাচটা শেষ করে দিতে হবে।” গর্ডন বলেন।
আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের সেই চমৎকার অ্যাসিস্ট প্রসঙ্গে
“গোলের পরই আমি নিজ মুখে তাঁর প্রশংসা করেছি। আমি বারবার ওভাবে সামনে দৌড় দিই, আর পুরো বিশ্বে এমন ক্রস দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন খেলোয়াড় হাতে গোনা কয়েকজন—সঙ্গে তাঁর নিখুঁত টেকনিক, এবং ভুলের ঝুঁকি নিয়েও ওই ধরনের ভেদকারী পাস দেওয়ার সাহস। তাই ট্রেন্টের প্রশংসা আমাকে করতেই হবে। এ কারণেই তিনি এত ভালো, আর এ কারণেই আমি সবসময় তাঁর পাশে খেলতে চেয়েছি।”
প্রায় দুই বছর পর আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের আবার ইংল্যান্ডের শুরুর একাদশে ফেরা প্রসঙ্গে
“ইংল্যান্ড দলে তাঁর যাত্রায় নিজস্ব উত্থান-পতন ও গল্প আছে। হয়তো তাঁর আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল, কিংবা তিনি নিজেও আরও বেশি ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন। এই ক্যাম্পে তিনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতা দেখিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়টা আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। অনুশীলনে তাঁর ফর্ম ছিল দুর্দান্ত, তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন দলের জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।”
ম্যাচে লুইস হলের সঙ্গে আপনার দারুণ বোঝাপড়াও আমরা দেখেছি
“হ্যাঁ, হলের সঙ্গে খেলার দিনগুলো আমি সত্যিই মিস করি। তিনি শীর্ষমানের খেলোয়াড়, আবার দারুণ একজন মানুষও। নিউক্যাসলে একসঙ্গে খেলার সময়ই আমাদের মধ্যে চমৎকার রসায়ন ও বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল, তাই আবার তাঁর পাশে খেলতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি।”
এটাই কি আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর হেডে করা গোল?
“সম্ভবত এটাই আমার করা একমাত্র হেডে গোল, আর সম্ভবত আপনার দেখা সবচেয়ে বাজে হেডারও (হাসি)। সত্যি বলতে, ওই গোলটা করতে পেরে আমি খুবই খুশি ও গর্বিত, কারণ অনুশীলনে হেডিং রপ্ত করতে কত ঘণ্টা ব্যয় করেছি তার হিসাব নেই। আর যেমনটা বললাম, আমার মনে হয় এর আগে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আমি হেডে গোল করিনি, তাই ওই গোলটা করতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।”
এই জয় আপনাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
“খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগে বলেছিলাম স্পেনের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ আমরা জিততে পারিনি। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় দরকার বাস্তব জয়, তাই আজ রাতে 3 পয়েন্ট পেয়ে আমি খুব খুশি, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও আমি সন্তুষ্ট। এখন আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে।”
